স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ পালন করেছেন।

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা সর্বশ্রেষ্ট ঈদ,ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা কখনোই বিদয়াত বা নতুন বিষয় নই, যারা বিদয়াত বলে, তারা তাদের জিহালতের কারনেই বলে থাকে।

মূলত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার ঈদে মীলাদে (হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালন করেছেন। উনার পবিত্র বিলাদত শরীফের বার হচ্ছে ইয়াওমুল ইছনাইন বা সোমবার। এই দিনে শুকরিয়া আদায় করে তিনি রোজা রাখতেন। অর্থাৎ মীলাদে হাবীবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালন করেছেন।

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ بِـهٰذَا الْـحَدِيْثِ زَادَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَاَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الْاِثْنَيْنِ وَيَوْمِ الْـخَمِيْسِ قَالَ ‏فِيْهِ وُلِدْتُّ وَفِيْهِ اُنْزِلَ عَلَىَّ الْقُرْاٰنُ.

অর্থ : “হযরত আবূ ক্বাতাদা আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ ও ইয়াওমুল খ¦মীস রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন (ইয়াওমুল ইছলাইনিল আযীম শরীফ) আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি, আর এদিনই আমার উপর ওহী মুবারক বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭, আবূ দাঊদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৪২৮, সুনানে কুবরা লি বায়হাক্বী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৮২১৭, ইবনে খুজাইমা শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২১১৭, মুসনাদে আবি আওয়ানা : হাদীছ শরীফ নং ২৯২৬, মুসনাদে আহমদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২২৬০৩)

অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে জানা যায় যে, পবিত্র সোমবার শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক ও আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ লাভের দিন। এই দিনে রোযা রাখার ইঙ্গিত অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে।

এর থেকেও প্রমাণিত হয় যে, বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন এবং বরকতী বিশেষ দিন সমূহের দিন খুশি প্রকাশ করা বা তা পালন করতে হবে। কারন স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার আগমনের বারে শুকরিয়া আদায় করে রোজা রাখতেন। হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন উপলক্ষে নিজেই নিজের আগমন দিবস পালন করেছেন।

আর এই রোজা রাখাকে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ পালনের ভিত্তি হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম হযরত জালালুদ্দীন সূয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। নিম্নে সে দলীল উল্লেখ করা হয়েছে:
“আর স্থান ও কালের ফযীলতের ভিত্তি হচ্ছে ওইগুলোতে সম্পনকৃত ইবাদতসমূহ, যেগুলো আল্লাহ্ পাক ওইগুলোর সাথে, অর্থাৎ ওই কাল ও স্থানগুলোর সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। কেননা, একথা সর্বজন বিদিত যে, স্থান ও কালের মহত্ব (বুযুর্গী) তো (কখনো) ওইসব সত্তা থেকে হয় না বরং সেগুলোর এসব বুযুর্গী ওইগুলোর অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যাদি (অথবা সম্পর্ক ইত্যাদি)’র কারণেই অর্জিত হয়ে থাকে, যেগুলোর সাথে এ স্থান ও কাল নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। এখন আপনারা ওইসব বৈশিষ্ট্য ও বরকতরাজি দেখুন, যেগুলো আলাহ্ তা‘আলা রবিউল আউয়াল মাস ও সোমবারের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। আপনি কি দেখেননি যে, সোমবার রোযা রাখলে বড় ফযীলত রয়েছে? কেননা, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বেলাদত শরীফ এ দিনে হয়েছে। সুতরাং যখন এ মাস আসে, তখন এ মাসের উপযোগী সম্মান প্রদর্শন ও গুরুত্ব প্রদান করা, আর নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম –উনার অনুসরণ করা উচিৎ। কারণ, উনার পবিত্র অভ্যাস ছিলো যে, তিনি ফযীলতমণ্ডিত সময়গুলোতে বেশী ইবাদত করতেন এবং অধিক পরিমাণে দান-খায়রাত করতেন।
প্রসঙ্গে আমি (ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূত্বী) ও মীলাদের (বৈধতার) জন্য একটি মূলনীতি বের করেছি। তাহচ্ছে- ইমাম বায়হাক্বী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) হযরত আনাস রাদ্বিয়ালাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নুবূয়ত মুবারক প্রকাশের পর নিজের আক্বীক্বা মুবারক করেছেন, অথচ উনার সম্মানিত দাদা হযরত আবদুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার বেলাদত শরীফের সপ্তম দিনে উনার আক্বীকা মুবারক করেছিলেন। আর আক্বীক্বা দ্বিতীয়বার করা যায় না। সুতরাং এই আক্বীকা মুবারকের কারণ এটা বলা যাবে যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করার জন্য তা করেছেন যে, তিনি তাঁকে‘রাহমাতাল্লিল আ-লামীন’ (সমস্ত বিশ্বের জন্য রহমত) করেছেন এবং উম্মতের জন্য উনার বেলাদত শরীফের উপর আলাহর শোকর আদায় করাকে শরীয়তসম্মত করার জন্য পুনরায় আক্বীক্বা মুবারক করেছেন।

যেমন তিনি স্বয়ং নিজের উপর দুরূদ পাঠ করতেন। সুতরাং আমাদেরও উচিত হবে মীলাদে পাকে লোকজনকে জমায়েত করে, তাদেরকে খানা খাইয়ে এবং অন্যান্য বৈধপন্থায় খুশী মুবারক প্রকাশ করে মহামহিম আল্লাহ পাক পাক উনার শুকরিয়া আদায় করা।
হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র আশুরা শরীফ উনার দুই রোজাকে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ভিত্তী হিসাবে দলীল দিয়েছেন। তিনি বলেছেন শুকরিয়া স্বরূপ এ রোজা রাখা হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতের শুকরিয়া বিভিন্ন ভাবে করা যায়। রোজা রেখে, সিজদা করে, তিলওয়াত করে, দান ছদকা করে। আর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন সবচাইতে বড় নিয়ামত মুবারক।” (হুসনুল মাকাছিদ ফি আমালিল মাওলিদ ৬৩, আল হাবী লিল ফতওয়া ১০৫, সুবহুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১ম খন্ড ৩৬৬ পৃষ্ঠা, হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামীন ২৩৭ পৃষ্ঠা)

সূতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে খুশী মুবারক প্রকাশ করে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত তো নয়ই বরং খাছ সুন্নাত মুবারক হিসেবেই প্রমানিত হলো।