কুরআন শরীফে বর্নিত “মানুষ মাটির তৈরী ” প্রসঙ্গে

কুরআন শরীফ উনার যে সকল আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে মানুষ মাটির তৈরী সে সকল আয়াত শরীফ আলোচ্য বা লক্ষ্য হলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম।” কেননা শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
যেমন, কুরআন শরীফ  মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
فانا خلقناكم من تراب ثم من نطفة ثم من علقة ثم من مضغة مخلقة وغير مخلقة لنبين لكم
অর্থ: (হে লোক সকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দীহান হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর নুৎফা থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে।” (সূরায়ে হজ্জ: আয়াত শরীফ ৫)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত خلقناكم শব্দ দ্বারা মুলত শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন, এ প্রসঙ্গে ফক্বীহুল আছর, প্রখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে সামারকান্দী” কিতাব উনার ২য় খন্ডের , ৩৮০ পৃষ্ঠায় লিখেন-
(فانا خلقناكم …) اى خلقنا اباكم الذى هو اصل البشر يعنى حضرت ادم عليه السلام (من تراب)
অর্থ: (আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা যিনি মানবজাতীর মূল অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।
ইমামুল মুফাস্সিরীন, আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে কুরতুবী”- কিতাব উনার ৬ষ্ঠ খন্ডের ৬ পৃষ্ঠায় লিখেন-
فانا خلقناكم من تراب) يعنى حضرت ادم عليه السلام من تراب.
অর্থ: (নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
কুরআন শরীফ-এ্রর সূরা রুম উনার ২০নং আয়াত শরীফ-এ্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
ان خلقناكم من تراب ثم اذا انتم بشر تنتشرون.
অর্থ: উনার নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।”
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত خلقناكم শব্দ দ্বারা মুলত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে,
যেমন, এ প্রসঙ্গে আল্লামা আবুল লাইছ সমরকান্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাফসীরে সামারকান্দী” কিতাব- এর ৩য় খন্ডের, ৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
(ان خلقناكم من تراب …) يعنى خلق حضرت ادم عليه السلام من تراب وانتم ولده (ثم اذا انتم) ذريته من بعده (بشر تنتشرون) يعنى تبسطون.
অর্থ: (তিনি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমরা হলে উনার সন্তান উনার পরে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছো।”
কুরআন শরীফ-এ্রর সূরা ফাতির উনার ১১নং আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
والله خلقكم من تراب ثم من نطفة ثم جعلكم ازواجا.
অর্থ: মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর নুৎফা থেকে, তারপর করেছেন তোমাদেরকে যুগল।”
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত خلقكم শব্দ দ্বারা মুলত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে,
যেমন, এ প্রসঙ্গে আল্লামা ছাহেবে খাযেন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাফসীরে খাযেন” কিতাব উনার ৩য় খন্ড, ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন-
والله خلقكم من تراب يعنى حضرت ادم عليه السلام.
অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থ হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
উপরোক্ত বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ” সমূহের দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো