পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন সর্বশ্রেষ্ঠ তম ঈদ যেখানে রয়েছে দায়িমী ছলাত মুবারক, যা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঠ করেন।

বিভিন্ন বাতিল ফিরকার লোকেরা বলে থাকে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ তথা সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ, ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার কেমন ঈদ যেখানে ছলাত নাই খুতবা নাই?  যেহেতু সকল ঈদের সেরা ঈদ সেহেতু ছলাত ডাবল হতো, খুতবাও ডবল হতো। কিন্তু ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ(ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদ হলে ছলাত, খুতবা নেই কেন??

আমরা বলতে চাই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সাইয়্যিদুল আইয়াদ, অর্থাৎ সকল ঈদের সেরা ঈদ সেহেতু এ ঈদে এমন ছলাত রয়েছে, সে ছলাত শুধু ডবলই নয় বরং দায়িমী ছলাত। এ ছলাত শুরু হয়েছে সৃষ্টির শুরু থেকে এবং এটা জারী থাকবে অনন্তকাল ধরে। কারণ এ ছলাত স্বয়ং আল্লাহ পাক পড়েন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার ফেরেশতা ( আলাইহিমুস সালাম গন) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার শান মুবারক এ ছলাত পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার শান মুবারক এ ছলাত পাঠ করো এবং সেই সাথে যথাযথ সম্মানে সালাম মুবারক পেশ করো।” (সূরা আহযাব/৫৬)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ-্উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক মু’মিন-মুসলমানদের জন্য এ ছলাত পড়া ফরয-ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এমনকি এ ছলাত অন্য ইবাদতসমূহের মধ্যেও পড়ার হুকুম রয়েছে। বিশেষ করে দোয়া বা মুনাজাতকে বলা হয়েছে ইবাদতের মগজ।
যেমন হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن انس رضى الله تعال عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الدعاء مخ العبادة .
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, দোয়া হলো ইবাদতের মগজ বা সারবস্তু।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
আর সেই দোয়া বা মুনাজাত ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত উনার শান মুবারক এ ছলাত শরীফ পাঠ না করা হবে। সুবহানাল্লাহ!
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ-্উনার মধ্যেে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن عمر بن الخطاب رضى الله تعالى عنه قال ان الدعاء موقوف بين السماء والارض لايصعد منها شىْء حتى تصلى على نبيك.
অর্থ: “হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও যমীনের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ না করবে, ততক্ষণ তোমার কোন দোয়াই আল্লাহ পাক-এর নিকট পৌঁছবেনা।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
“তাইসীরুল উছূল” কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
الدعاء موقوف بين السماء والارض لا يصعد حتى يصلى على النبى صلى الله عليه وسلم. صلوا على اول الدعاء واوسطه واخره .
অর্থ: “দোয়া আসমান ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে। যতোক্ষণ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করা না হয়, ততোক্ষণ পর্যন্ত দোয়া উপরে উঠে না বা কবুল হয় না। সুতরাং, তোমরা দোয়ার শুরুতে, মধ্যখানে ও শেষে আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করো।”
অতএব, এ ছলাতের গুরুত্ব কত বেশি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইভাবে এ ঈদে এতো বিশাল ও এতো ব্যাপক খুতবা রয়েছে, যে খুতবা (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার আলোচনা, প্রশংসা, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত, ছানা-ছিফত) ক্বিয়ামত পর্যন্ত বর্ণনা করা হলেও তা শেষ হবে না। সুবহানাল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন-
ورفعنا لك ذكرك .
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আলোচনা মুবারক বা খুতবা মুবারককে বুলন্দ করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ-৪)। সুবহানাল্লাহ!
এবং আল্লাহ পাক বান্দাদেরকে আদেশ করেছেন যে-
انا ارسلنك شاهدا ومبشرا ونذيرا. لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا .
অর্থ: “তোমরা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার খিদমত মুবারক করো, উনাকে সম্মান মুবারক করো এবং সকাল-সন্ধ্যা, অর্থাৎ সদাসর্বদা উনার প্রশংসা মুবারক, ছানা-ছিফত মুবারক, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করো। এক কথায় উনার শান মুবারক এ খুতবা প্রদান করো।” (সূরা ফাতহ- ৮, ৯) সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, সব ঈদের হুকুম এক রকম নয়। যেমন ঈদুল ফিতরের বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা। আর ঈদুল আযহার বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পরে পশু কুরবানী করা। যার প্রত্যেকটি ওয়াজিব। এ দু’ঈদে কিন্তু রোযা রাখা হারাম। কিন্তু জুমুআর দিন ও আরাফা’র দিন যে দু দিনকে হাদীস শরীফে ঈদের দিন বলা হয়েছে।  মুসলমানদের জন্য এ দু’ ঈদে রোযা রাখা হারাম নয় বরং অশেষ ফযীলতের কারণ। আর এ দু’ ঈদের আমলের মধ্যে কুরবানী কিংবা ছদক্বাতুল ফিতর কোনটিই নেই। বরং জুমুআর দিনে যুহরের নামাযের পরিবর্তে কেবলমাত্র পুরুষ, বালিগ, সুস্থ, মুক্বীম ব্যক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে খুতবাসহ নামায আদায় করতে হয়। আর মহিলাদের জন্য জুমুআর দিনে আলাদা কোন ছলাতও নেই, আবার খুতবাও নেই। আর আরাফার দিনে শুধুমাত্র যারা হজ্জে যেয়ে থাকেন, তাদের জন্য ৯ই যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে অবস্থান করাটা ফরযের অন্তর্ভুক্ত। আর শুধুমাত্র হাজ্বীগণের জন্য আরাফা’র ময়দানে যুহর ও আছর নামায পড়তে হয়। ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আরাফা’র ময়দানে আলাদা কোন ছলাত নেই। আর খুতবা শুধুমাত্র হাজীগণের জন্যই। হাজ্বীগণ ব্যতীত দুনিয়ার কোন মুসলমানের জন্য, হোক সে পুরুষ অথবা মহিলা তার জন্য আরাফা’র দিন ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আলাদা কোন ছলাতও নেই, খুতবাও নেই। আর অন্যান্যদের জন্য আরাফা’র দিন রোযা রাখা খাছ সুন্নত এবং অশেষ ফযীলতের কারণ।

অতএব, সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে উলামায়ে ছূদের প্রদত্ত বক্তব্য চরম জিহালতপূর্ণ ও মূর্খতাপূর্ণ বলেই প্রমাণিত হলো।