হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন

হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগন ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন,
এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন। সহীহ হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, যা হযরত তিবরানী ও হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা বর্ণনা করেন,

عن خريم بن أوس رضى الله تعالى عنه قال هاجرت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم منصرفه من تبوك، فسمعت العباس يقول يارسول الله صلى الله عليه وسلم انى أريد أن امتدحك. قال: قل لايفضض الله فاك فقال:

من قبلها طبت فى الظلال وفى- مستودع حيث يخصف الورق

ثم هبطت البلاد لا بشر- أنت ولا مضغة ولا علق

بل نطفة تركب السفين وقد- ألجم نسرأ وأهله الغرق

تنقل من صالب الى رحم- اذا مضى عالم بدا طبق

وردت نارا الخليل مستترا- في صلبه أنت كيف يحترق

حتى احتوى بيتك المحيمن من خندف علياء تحتها النطق

وانت لما ولدت اشر قت ال- أرض وضاءت بنورك الأفق.

فتحن فى ذلك الضياء وى- النور وسبل الرشاد تخترق

অর্থ: হযরত খারীম ইবনে আউস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তাবুক জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন আমি উনার ছোহবত মুবারক-এ গেলাম। এ সময় হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার ছানা-ছিফত মুবারক করতে চাই। তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ পাক আপনার মুখ মুবারককে হিফাযত করুন। অতঃপর তিনি বললেন:

১। (দুনিয়াতে আসার) আগে আপনি ছায়ায় দিনাতিপাত করতেন এবং এমন সুমহান স্থানে (জান্নাতে) অবস্থান করতেন, যেখানে পাতা মিলিত করা হয়। (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে)
২। অতঃপর আপনি যমীনে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে) তাশরীফ নিলেন। তখন আপনার মানুষের আকৃতি ছিলো না, না ছিলেন নূরী গোশত পিন্ড, না নূরী জমাট রক্ত খন্ড।
৩। আপনি সেই নূর মুবারক যা নৌকায় আরোহণ করেছিলেন এবং নসর (প্রতিমা) ও নসর পূজারীদেরকে ওই পানি গ্রাস করেছিলো। (হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে)।
৪। আপনি এমনিভাবে জিসিম মুবারক থেকে রেহেম শরীফ-এ স্থানান্তরিত হতে থাকেন এবং যা শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছিলো।
৫। হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন আগুনে অবস্থান করেন, তখন আপনি উনার জিসিম মুবারক-এ ছিলেন। এমতাবস্থায় অগ্নির কি সাধ্য ছিলো যে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে স্পর্শ বা পোড়াতে পারে।
৬। অবশেষে আপনার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। আপনার রূহ মুবারক খন্দকের উচ্চস্থানকে ঘিরে নিলো, যার নিচে অন্যান্য পাহাড়ের মধ্যবর্তী অংশ আছে।
৭। আপনি যখন যমীনে তাশরীফ নিলেন তখন সারা পৃথিবী আপনার নূর মুবারক-এ আলোকিত হয়ে গেলো।
৮। এখন আমরা সেই মহান নূর মুবারক উনার ছোহবতে আছি। আমাদের সম্মুখে হিদায়েতের পথ উন্মুক্ত। সুবহানাল্লাহ!(দলীল: মুসতাদরেকে হাকিম : হাদীস ৫৪৬৮, দালায়েলুন নবুয়াত ২০৩৫, মা’রিফাতুছ ছাহাব লি আবু নুয়াইম ২৫৩১ , খাছায়িছুল কুবরা)
উপরোক্ত হাদীস শরীফে দেখতে পেলাম, হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন বিষয়ে বর্ণনা করেন, এবং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বিষয়ে খুশি মুবারক প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো উনার বিলাদত শরীফ এর ঘটনা বর্ণনা করা শুনে বললেন না , এটা বলবেন না…. এগুলো বিদয়াত… ইত্যাদি। বরং তিনি খুশি হলেন।
সূতরাং যারা বলবে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত তারা হাদীস শরীফ বিরোধী এবং বিদয়াতি, সেই সাথে নবীজীর প্রতি বিদ্বেষকারী।