সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার উম্মতগণ উনাদের মর্যাদার কথা পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে একান্ত আলাপে মহান আল্লাহ পাক তিনিও জানিয়েছেন

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
كنتم خير امة اخرجت للناس
অর্থ: “আপনারাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্যই আপনাদের আবির্ভাব হয়েছে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১০)
মূলত, উম্মতের পরিপূর্ণতা তাদের নবী উনার মান-মর্যাদার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সর্বোচ্চ সূত্র তথা মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি থাকবো আদম সন্তানদের সাইয়্যিদ। এটা আমার ফখর নয়।”
অন্যদিকে মাক্বামে মাহমূদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই জন্য যে কেবল নির্দিষ্ট তা তিনি উল্লেখ করেছেন। মাক্বামে মাহমূদ পূর্বের ও পরের হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছেই আকর্ষণীয় এবং এই মর্যাদা অন্য সব হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাগালেরও বাইরে থাকবে। এমনকি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম প্রমুখ বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাও এ গৌরব লাভ করবেন না।
আর এ বিশেষ মর্যাদার বিষয়টিই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে একান্ত আলাপে মহান আল্লাহ পাক তিনি এ বিষয়টিও জানিয়ে দিয়েছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতে হাবীবী উনাদের মর্যাদা।
এ প্রসঙ্গে আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া শরীফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একদা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে আমি এমন এক উম্মতের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি যারা সৃষ্টি হিসেবে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য তাদের আবির্ভাব হবে, তারা সৎকার্যের নির্দেশ দান করবেন, অসৎ কাজে নিষেধ করবেন। হে মহান আল্লাহ পাক! উনাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘না, উনারা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত।’
পুনরায় হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে আমি এমন উম্মতের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি, যারা সৃষ্টি হিসেবে সর্বশেষ কিন্তু পবিত্র জান্নাতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম। হে মহান আল্লাহ পাক! উনাদেরকে আমার উম্মত করে দিন।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘না, উনারা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত।’
আবার হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে আমি এমন উম্মতের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি, যাদের অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম সুরক্ষিত। অর্থাৎ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম শরীফ উনার হাফিয। তারা হিফয হতে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম তিলাওয়াত করবেন। উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পূর্বে যেসব উম্মত ছিলেন উনারা দেখে দেখে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম শরীফ তিলাওয়াত করতেন। কিন্তু যখন তাদের থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম শরীফ উঠিয়ে নেয়া হতো, তখন তারা আর কিছুই তিলাওয়াত করতে পারতো না। কেননা তারা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম শরীফ উনার কোনো অংশই হিফয করতে পারেনি। তারা পরবর্তীতে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম শরীফ উনাকে আর চিনতেই সক্ষম হতো না। কিন্তু উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম শরীফ হিফয করার তাওফীক দান করেছেন, যা অন্য কাউকে দান করা হয়নি। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে আমার প্রতিপালক! উনাদেরকে আমার উম্মত করে দিন।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘না, উনারা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত।’
হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় বললেন, “হে মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে আমি এমন এক উম্মতের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নামের ছদকা-খয়রাত নিজেরা খাবে। কিন্তু তাদেরকে এর জন্যে আবার পুরস্কারও দেয়া হবে। উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পূর্বে অন্যান্য উম্মতের কোনো ব্যক্তি যদি ছদকা করতো এবং তা মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবূল হতো তখন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আগুন প্রেরণ করতেন এবং সে আগুন তা পুড়িয়ে দিতো। কিন্তু যদি তা কবূল না হতো তাহলে আগুন তা পোড়াতো না। বরং এটাকে পশু-পাখিরা খেয়ে ফেলতো এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি ওই উম্মতের ধনীদের ছদকা দরিদ্রদের জন্যে গ্রহণ করবেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে আমার প্রতিপালক! উনাদেরকে আমার উম্মত করে দিন।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘না, উনারা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত।’
হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় বললেন, ‘হে মহান আল্লাহ পাক! পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে আমি এমন এক উম্মতের উল্লেখ পাচ্ছি, তারা যদি নেক কাজ করতে ইচ্ছে করে অথচ পরবর্তীতে তা করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য একটি নেকী লেখা হবে। আর যদি তা তারা করতে পারে, তাহলে তাদের জন্যে দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত নেকী দেয়া হবে। হে আমার প্রতিপালক! উনাদেরকে আমার উম্মত করে দিন।” মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘না, উনারা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত।’
হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় বললেন, “হে মহান আল্লাহ পাক! আমি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে এমন একটি উম্মতের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি, যাঁরা অন্যদের জন্যে ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন এবং তাদের সে সুপারিশ কবূলও করা হবে। হে আমার প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাক! উনাদেরকে আমার উম্মত করে দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘না, উনারা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত।’
হযরত কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, অতঃপর হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে বললেন, اللهم اجعلنى من امة محمد অর্থাৎ “হে মহান আল্লাহ পাক! আমাকেও আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতে শামিল করুন।” সুবহানাল্লাহ!