সন্তান বা পিতা-মাতা যেকেউ কুফরী করলে ওয়ারিসত্ব বাতিল হবে


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يُوصِيكُمُ اللّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ……أَبَآؤُكُمْ وَأَبناؤُكُمْ لاَ تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعاً فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيما حَكِيمًا
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে আপনাদের আওলাদদের সম্পর্কে আদেশ করেন ওয়ারিসত্বের ব্যাপারে। একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর অংশের সমান।…. আবার আপনাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে আপনাদের জন্যে অধিক উপকারী আপনারা তা জানেন না। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নির্ধারিত অংশ, নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (পবিত্র ও সম্মানিত সূরা নিসা শরীফ; পবিত্র ও সম্মানিত আয়াত শরীফ ১১)
সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নিধারিত বিধান তথা সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মুবারক অনুযায়ী একজন সন্তান উনার পিতার থেকে সম্পদের ওয়ারিছ হন। কিন্তু এই ওয়ারিসত্ব কিছু বিশেষ কারণে বাতিল হয়ে যায়।
যখন কোনো সন্তান বা পিতা কুফরী করে আর কুফরী করার কারণে ওয়ারিসত্ব বাতিল হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَنَادَى نُوْحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِيْ مِنْ أَهْلِيْ وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِيْنَ، قَالَ يَا نُوْحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ-
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম যখন মহান রব তায়ালা তিনি উনাকে ডেকে ফরিয়াদ করলেন, আয় আমার রব তায়ালা! আমার পুত্র তো আমার পরিবারভুক্ত। আর আপনার ওয়াদা নিশ্চয়ই সত্য। আপনি শ্রেষ্ঠতম বিচারকও। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, ‘হে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম! সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়, সে অসৎ কর্মপরায়ণ’ (পবিত্র ও সম্মানিত সূরা হুদ শরীফ; পবিত্র ও সম্মানিত আয়াত শরীফ ৪৫,৪৬)
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا اِمْرَأَةَ نُوْحٍ وَاِمْرَأَةَ لُوْطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئاً وَقِيْلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِيْن-
অর্থ: ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে তুলে ধরছেন সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়া ও সাইয়্যিদুনা হযরত লূত আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়াকে। তারা দু’জন ছিল আমার দু’জন অন্যতম নেক বান্দা উনাদের আহলিয়া। কিন্তু তারা উনাদের সঙ্গে বেঈমানী করে। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত হতে তাঁরা কিছুমাত্র রক্ষা পায়নি। বরং বলা হল, ‘তোমরা দু’জন অপরাপর প্রবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ কর’। (পবিত্র ও সম্মানিত সূরা তাহরীম শরীফ; পবিত্র ও সম্মানিত আয়াত শরীফ ১০)
বলা বাহুল্য; হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের সন্তান ও আহলিয়া হওয়ার পরেও কুফরী ও বেঈমানী করার করণে তারা যদি নিসবত থেকে বাদ হয়ে যায়। তাহলে বর্তমানেও যদি কোন পিতা কুফরী করে তবে তার সন্তান আর সন্তান হিসেবে থাকেবেনা। আর সেই কারণে ওয়ারিসত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। আবার কোন সন্তান বা আহলিয়া যদি কুফরী করে তাহলে পিতা বা আহলিয়া হিসেবে না থাকার কারণে ওয়ারিসত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।
তবে চিন্তা ও ফিকিরের বিষয় হলো, কারো বাবার অনেক সম্পদ রয়েছে। কিন্তু ওয়ারিসত্ব না থাকার কারণে সে সমস্ত সম্পদ থেকে বঞ্চিত হলেও তাতেই সেই ঈমানদার সন্তান মহান আল্লাহ পাক উনার উপরই তাওয়াক্কুল করবেন। বাবার সম্পদের লোভ করবেন না। আর অল্পতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি বরকত দান করবেন। সুবাহানাল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে উক্ত বিষয়টি বুঝে ও ফিকির করে আমল করার তাওফীক্ব নছীব করুন। আমীন!