যারা বলে, দুই ঈদ ব্যতীত আর কোনো ঈদ নেই- তারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ অস্বীকারকারী

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ফজল-করম এবং রহমত মুবারক হিসেবে উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে।”
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফই কুল-কায়িনাত সকলের জন্য সবচেয়ে বড় ঈদ; যা পালন করা ফরয।
যারা বলে, ‘পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা এই দুই ঈদ ব্যতীত আর কোনো ঈদ নেই’- তারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকারকারী।
আর যারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকার করে তারা পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাফিরের অন্তর্ভুক্ত।
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামীর অন্তর্ভুক্ত।
আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার সম্মানিত দিনটিই প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে বড় ঈদ বা খুশির দিন। যা পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ নামে মশহুর। যারা বলে, ‘পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে দুই ঈদ ব্যতীত অন্য কোনো ঈদ নেই’- তারা প্রকৃতপক্ষে ‘কিল্লতে ইলম, কিল্লতে ফাহম’ অর্থাৎ কম জ্ঞান, কম বুঝ বা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের সম্পর্কে নেহায়েত অজ্ঞ এবং গুমরাহ হওয়ার কারণেই একথা বলে থাকে। কারণ পবিত্র ঈদুল ফিতর, পবিত্র ঈদুল আযহা অর্থাৎ বছরে দুই ঈদ ব্যতীত আরো অনেক ঈদ যে রয়েছে তা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক পবিত্র আয়াত শরীফ ও অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!

বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল ও রহমত মুবারক অর্থাৎ আমাকে পাওয়ার কারণে এবং আমার মুবারক উসীলায় সমস্ত ফযল-করম-নিয়ামত মুবারক লাভ করার কারণে তোমাদের উচিত ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা। অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা।” এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনার পবিত্র দিনটিই সবচেয়ে বড় ঈদের দিন বা খুশির দিন হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

‘ইবনে মাযাহ শরীফ ও মুয়াত্তা শরীফ’ উনার মধ্যে রয়েছে , হযরত উবাইদ ইবনে সাব্বাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। আর হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে মুত্তাছিল সনদে বর্ণিত; নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন পবিত্র জুমুয়া শরীফ উনার দিনে ইরশাদ মুবারক করেন, হে মুসলমানগণ! এই যে পবিত্র জুমুয়া উনার দিন, এ দিনকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের জন্য পবিত্র ঈদ উনার দিন হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

‘তিরমিযী শরীফ’ উনার মধ্যে রয়েছে, “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের পবিত্র দ্বীন উনাকে পূর্ণ করলাম’ এ পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিলো সে বলে উঠলো, ‘যদি এই পবিত্র আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ‘পবিত্র ঈদ উনার দিন বলে ঘোষণা করতাম।’ এটা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বললেন, এ পবিত্র আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল- (১) পবিত্র জুমুয়া উনার দিন এবং (২) পবিত্র আরাফা উনার দিন।” অর্থাৎ পুনরায় ঈদ ঘোষণা করতে হবে না। কেননা ঈদের দিনেই এ পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক মু’মিনের জন্য প্রতি মাসে চারটি ঈদ অথবা পাঁচটি ঈদ রয়েছে।” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মু’মিনের জন্য প্রতি মাসে ৪টি বা ৫টি ঈদের কথা বলা হয়েছে। কারণ, প্রতি মাসে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ ৪টি বা ৫টি হয়ে থাকে। আর জুমুয়াবার প্রতি মাসে ৪টি বা ৫টি হয়ে থাকে। অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আযহা ও পবিত্র ঈদুল ফিতর- এ দুটিই নয়, আরো অনেক ঈদ রয়েছে। কাজেই, জুমুয়াবার মু’মিনদের পবিত্র ঈদের দিন। আরবী বা চন্দ্র বছর অনুযায়ী এক বছরে প্রায় ৫০টি জুমুয়াবার হয়ে থাকে। সে হিসেবে এ ৫০টি দিনও মু’মিনদের জন্য ঈদের দিন। আবার ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার শরীফ দিনও মু’মিনদের ঈদের দিন। চন্দ্র বছর অনুযায়ী এক বছরে প্রায় ৫০টি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার শরীফ হয়ে থাকে। সে হিসেবে এ ৫০টি দিনই মু’মিনদের জন্য ঈদের দিন। আর আরবী বছরে ১২টি মাসের মধ্যে একটি মাস হচ্ছে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ। যা ২৯ বা ৩০ দিনে হয়ে থাকে। এবং এ ২৯ বা ৩০ দিন রোযাদার মু’মিনের জন্য খুশির দিন বা ঈদের দিন। পবিত্র সুন্নত রোযার ৪২ দিন খুশির বা ঈদের দিন। মু’মিনের জন্য পবিত্র আরাফার দিন ঈদের দিন বা খুশির দিন। তন্মধ্যে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই সবচেয়ে বড় ঈদ উনার দিন বা খুশির দিন। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ দ্বারা যেভাবে দু’ঈদ ছাবিত হয়েছে বা রয়েছে ঠিক একইভাবে অন্যান্য ঈদও। এছাড়া খাছভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদু ঈদে আ’যম ও সাইয়্যিদে ঈদে আকবর বা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ হিসেবে ছাবিত বা প্রমাণিত হয়েছে।

বলেন, মু’মিনের জন্য সর্বমোট ঈদ উনার দিন বা খুশির দিন হলো- জুমুয়াবার ৫০ দিন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার শরীফ ৫০ দিন, পবিত্র আরাফা উনার ১ দিন, পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ১ দিন, পবিত্র ঈদুল ফিত্র ১ দিন, পবিত্র ঈদুল আযহা বা পবিত্র কুরবানী উনার ৩ দিন, ফরয রোযার ২৯ বা ৩০ দিন, সুন্নত রোযার ৪২ দিন সর্বমোট ১৭৭ বা ১৭৮ দিন। অর্থাৎ বছরের প্রায় অর্ধেক দিনই মু’মিন-মুসলমান উনাদের জন্য ঈদ বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ!

বলেন, মূলকথা হলো- যারা বলে, ‘পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা এই দুই ঈদ ব্যতীত আর কোনো ঈদ নেই’- তারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকারকারী। আর যারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকার করে তারা পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাফিরের অন্তর্ভুক্ত। সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামীর অন্তর্ভুক্ত।