খ্রিষ্টনরা মুসলমাগন উনাদের ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা দেখেই তাদের কথিত ক্রিসমাস চালু করেছে।

বিভিন্ন বাতিলপন্থী ফেরকারা বলে থাকে খ্রিস্টানদের থেকেই নাকি ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের রীতি এসেছে ! নাউযুবিল্লাহ অথচ কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ এবং ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা । আমরা সকলেই জানি কোরআন সুন্নাহের মধ্যে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল রয়েই গেছে যার দলীল  পূর্বে অনেক উল্লেখ করা হয়েছে । আজকে কিছু ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করবে।

সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের জমানাই ব্যক্তি পর্যায়ে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হলেও (প্রাপ্ততথ্য মতে) ইতিহাস বলে ৩৯৪ হিজরীতে মিসরে সর্বপ্রথম মাসব্যাপী ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিল উদযাপন শুরু হয় এবং ৫১৭ হিজরী পর্যন্ত নিয়ম মাফিক রবিউল মাসে মাহফিল জারি ছিল। (তায়াজুল খুনাফা ২য় খন্ড- ইমাম মাখরিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

পরবর্তীতে ক্রুসেড যুদ্ধের সময় সালতানাতের পক্ষ থেকে আরো বিরাট সমারহে, আরো ব্যাপক জাকজমকের সাথে, আরো ব্যপাক প্রচার প্রসারের সাথে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়োজন শুরু হয় (১২শ’ শতাব্দী)। ইরাকের আরবালের বাদশাহ হযরত মালিক মুজাফফর রহমতুল্লাহি বিষয়টি বড় উদ্যোগে আয়োজন শুরু করেন। উল্লেখ্য পুরো মুসলিম সালতানাতের সুলতান মুসলিম বীর হযরত সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বোনকে বিয়ে করেছিলেন হযরত মালিক মুজাফফর রহমতুল্লাহি তিনি। সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পৃষ্ঠপোষকতায় বিষয়টি আরো বিস্তৃতি লাভ করে। যার প্রভাব পুরো মুসলিম কায়িনাতে ছড়িয়ে পরে। আজ থেকে ৪শ’ বছর আগে ইমামুল মুহাদ্দেসীন হযরত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘আল মাওরিদুর রাভী ফি মাওলিদিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কিতাবে বর্ণনা করেন, কিভাবে পবিত্র মক্কা ও মদীনা শরীফের জনগোষ্ঠী, মিসর-সিরিয়া-স্পেনের মুসলমানরা উৎসাহ-উদ্দিনপার সাথে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতেন ।

এবার আসুন খ্রিস্টানদের ক্রিসমাসের ইতিহাস দেখি:
খ্রিস্টানরা তাদের ক্রিসমাসের গোড়া যত আগে থেকেই দেখাক, ক্রিসমাস শব্দের উৎপত্তি কিন্তু হয়েছে ১০৩৮ সালের একটি রচনা থেকে। ক্রিসমাট ট্রি শব্দটি পাওয়া যায় ১৮৩৫ সালের একটি রচনা থেকে। ১৭শ’ শতাব্দী থেকে মুসলমানদের দেখাদেখি কিছু খ্রিস্টান নিজেদের নবীর বিষয়টি চালু করতে চাইলেও গোড়া খ্রিস্টানরা এর কট্টর বিরোধী ছিলো।  তাই খ্রিস্টানদের মধ্যে এ দিবসটি তখন পালন করা হয়নিএবং রেনেঁসার যুগে খ্রিস্টানদের একটি মহল ক্রিসমাস পালন করাকে অধর্মীয় মনে করত। আর এ অনুভূতির কারনে ১৬০০ সালে ইংল্যান্ড ও আমেরিকার কিছু অংশে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই বিষয়ে The World Book Encyclopedia তে রয়েছে,
“During the Repormation many Christans began to consider chistmas a non religious customs. During the 1600’s. Because of these feelings, Christmas was outlawed in England and in parts of the British colonies in America.”  (The World Book Encyclopedia:3)
তবে নিষেধাজ্ঞা তুলে খ্রিস্টানরা ক্রিসমাসকে দিবস হিসেবে পালন শুরু করে উনবিংশ শতাব্দী থেকে। ১৯ শতাব্দীর আগে খ্রিস্টানরা ক্রিসমাসকে বড় উৎসব হিসেবে বড় অনুষ্ঠান করে পালন করেছে এমন ইতিহাস কেউ দেখাতে পারবে না।

বরং ১৯শ’ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত তাদের ক্রিসমাস পালনের তেমন অস্তিত্ব ছিলো না। ১৯শ’ শতাব্দীতে চালর্স ডিকেন্স ‘এ ক্রিসমাস ক্যারল’ নামক উপন্যাস লিখে ক্রিসমাস খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রচারে জোর ভূমিকা রাখে।
তখন থেকেই খ্রিস্টানদের মধ্যে ক্রিসমাস জোর পালন শুরু হয়। কারণ খ্রিস্টানরা তখন দেখতো, মুসলমানরা তাদের নবীজির জন্য ঈদে মীলাদুন নবী কত যাকজমকভাবে পালন করে, ঘরবাড়ি সাজায়, মানুষ খাদ্য খাওয়ায়, উৎসব করে।

এছাড়াও ক্রিসমাসের দিবস নিয়ে খ্রিস্টানরা নিজেরাই সন্দিহান। কেউ পালন করে ২৫শে ডিসেম্বর, কেউ ৬ জানুয়ারি, কেউবা ৭ই জানুয়ারি, কেউবা ১৯শে জানুয়ারি ক্রিসমাস পালন করে থাকে। তবে জাতীয় স্বার্থে তারা বিষয়টি এখন একদিনেই (২৫শে ডিসেম্বর) প্রচার করে থাকে।

এছাড়াও  দেখুন Encyclopedia Britannica তে  ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম কে সঙ্গয়িত করা হয়েছে এভাবে,
“Mawlid also spelled MAWLUD or Milad in islam especially in birthday of the Prophet Muhammad( Milad an Nabi)”
বিশ্বব্যাপী চালু খ্রিস্টানদের এই রেফারেন্স বইয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম এর আগমনের দিবসকেই বোঝাই। এছাড়াও মীলাদুন্নবী পালন যে খ্রিস্টানদের প্রথা বিরুধী তাও এই বইয়ে উল্লেখ করা আছে।

মূলতঃ মুসলমানদের দেখেই খ্রিস্টানরা ক্রিসমাস পালন শিখে। এ সম্পর্কে ইতিহাস বলে- “Christmas did not become a legal holiday there until 1856. Even then, some schools continued to hold classes on December 25 until 1870
(সূত্র: http://bit.ly/1iY7nUG)

খ্রিস্টানরা কিন্তু কখনই তাদের নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নিয়ে ক্রিসমাস এভাবে পালন করেনি। এটাই ঐতিহাসিক সত্য, খ্রিস্টানরা আগে ক্রিসমাসকে এখনকার মত পালন করতে জানতোই না। বরং খোদ পোপ পর্যন্ত ক্রিসমাস পালনকে নিষিদ্ধ বলতো।

মজার বিসয়  ক্রিসমাসের দিবস নিয়ে খ্রিস্টানরা নিজেরাই সন্দিহান। কেউ পালন করে ২৫শে ডিসেম্বর, কেউ ৬ জানুয়ারি, কেউবা ৭ই জানুয়ারি, কেউবা ১৯শে জানুয়ারি ক্রিসমাস পালন করে থাকে। তবে জাতীয় স্বার্থে তারা বিষয়টি এখন একদিনেই (২৫শে ডিসেম্বর) প্রচার করে থাকে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে নাযে স্বর্ণযুগে মুসলমাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি দেখে অনেক কালচার গ্রহণ করেছিলো খ্রিস্টানরা। মুসলমানরা তাদের নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মদিবস পালন উপলক্ষে আনন্দ খুশি করে, সবাইকে খাদ্য খাওয়ায় এ কালচারটা খ্রিস্টানরাও আয়াত্ব করার চেষ্টা করে। এ শিক্ষা থেকেই তারা কথিত ক্রিসমাস পালন শুরু করে।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  খ্রিস্টানদের থেকে নয়, বরং খ্রিস্টানরাই মুসলমানদের দেখে ক্রিসমাস চালু করেছে।