সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা একটি সার্বজনিন আমল, এই আমলের স্থায়িত্ব অনন্তকালব্যাপী এবং যে আমলের বদলা কাফেররাও লাভ করে থাকে ।

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন অর্থাৎ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তথা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করার যে আমল তার প্রতিদান চিরস্থায়ী  মুসলমান, ঈমানদার উনাদের জন্য তো অবশ্যই এমন কি কাফিরদের জন্যও সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের প্রতিদান চিরস্থায়ী। তাদের জন্যও উপকারী।

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশি মুবরাক প্রকাশ করার আমল সার্বজনীন, সর্বকালীন, সর্বপাত্রীয়।
এই বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وما ارسلناك الا رحمة للعالمين
অর্থ: “আমি আপনাকে সারা আলম-এর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)

পবিত্র ‘ছহীহ বুখারী শরীফ’-এর দ্বিতীয় খন্ডের ৭৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
قال عروة وثويبة مولاة لابى لهب كان ابو لهب اعتقها فارضعت النبى صلى الله عليه وسلم فلما مات ابو لهب اريه بعض اهله بشر حيبة قال له ماذا لقيت قال ابو لهب لم الق بعد كم غير انى سقيت فى هذه بعتاقتى ثويبة.
অর্থ: হযরত উরওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত সুয়াইবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি ছিলেন আবু লাহাবের বাঁদী এবং আবু লাহাব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এ খুশি হয়ে উনার খিদমত করার জন্য ওই বাঁদীকে আযাদ করে দিয়েছিলো। এরপর আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি দুধ পান করান। অতঃপর আবু লাহাব যখন মারা গেলো (কিছুদিন পর) তার পরিবারের একজন অর্থাৎ তার ভাই হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, আবূ লাহাব সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে নিপতিত আছে। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।’ আবু লাহাব উত্তরে বললো, ‘যখন থেকে আপনাদের কাছ থেকে দূরে রয়েছি তখন থেকেই ভীষণ কষ্টে আছি। তবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে তথা খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাঁদী সুয়াইবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে দু’আঙুলের ইশারায় আযাদ করার কারণে সেই দু’আঙ্গুল হতে সুমিষ্ট ঠান্ডা ও সুশীতল পানি পান করতে পারছি। (উমদাতুল ক্বারী ২০ খ-, ৯৩ পৃষ্ঠা, ‘ফতহুল বারী, শরহে বুখারী’ কিতাবের ৯ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা মাওয়াহিবুল লাদুননিয়াহ ১ম খন্ড, শরহুয যারকানী ১ম খ-, ২৬০ পৃষ্ঠা)

সুতরাং, বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন তথা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করা করা কত বড় উপকারী দুনিয়া ও আখিরাতে। এবং এটাও স্পট হয়ে গেল যে- সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা অবশ্যই সার্বজনীন। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে কেন্দ্র করে আল্লাহপাক সমস্ত নবী- রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে শপথ / ওয়াদা নিয়েছেন।
এই বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝে বর্ণিত আছে-

واذ اخذ الله ميثاق النبين لما اتيتكم من كتاب وحكمة ثم جائكم رسول مصدق لما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه قال اأقررتم واخذتم على ذلكم اصرى قالوا اقررنا قال فاشهدوا وانا معكم من الشاهدين. فمن تولى بعد ذلك فاولئك هم الفاسقون.

অর্থ: “ যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, আপনাদেরকে আমি কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য (নুবুওওয়াত ও রিসালতের হাক্বীক্বী ফায়িজ দেয়ার জন্য) আখিরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ব বিষয়ে উনার খিদমত করবেন। আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে সকলে বললেন, হ্যাঁ আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করলাম। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন: আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে রাখুন, যারা এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে  তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক (ও কাফির) হয়ে যাবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১-৮২) সুবহানআল্লাহ!!