সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফের সময় গায়িবীভাবেই খাছ সুন্নতী ক্বাছিদা শরীফ শুনানো হয়েছিল

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফের সময় গায়িবীভাবেই খাছ সুন্নতী ক্বাছিদা শরীফ শুনানো হয়েছিল
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَـهْوَ الْـحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَـهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ.
অর্থ : “লোকদের মধ্যে কিছু এরূপ আছে যে,لـهو الـحديث “লাহওয়াল হাদীছ” বা সঙ্গীত বা গান-বাজনা করে, এ কারণে যে, (লোকদেরকে) বিনা ইলমে মহান আল্লাহ পাক উনার পথ হতে সরিয়ে দেয় এবং তা হাসি-ঠাট্টারূপে ব্যবহার করে। তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।” (পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عمر رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِسْتِمَاعُ الْـمَلاَهِىْ مَعْصِيَةُ وَّالْـجُلُوْسُ عَلَيْهَا فِسْقٌ وَّالتَّلَذُّذُ بِـهَا مِنَ الْكُفْرِ
অর্থ : “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, গান শোনা গুনাহের কাজ, গানের মজলিসে বসা ফাসিকী এবং গানের স্বাদ গ্রহণ করা কুফরী।” (বাহরুর রায়িক, মাবসূত)
আবার সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “গান-বাদ্য হচ্ছে মরদুদ শয়তানের শয়তানী উপকরণ বা আহবান।” যারা গান-বাজনা করে শয়তান তখন তার মোহজালে তাকে আবদ্ধ করে ফেলে।
আর এ গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র তখনই বিলুপ্ত করা সহজ ও সম্ভব হবে যখন মানুষ সুন্নতী ক্বাছীদা, হামদ শরীফ, না’ত শরীফ ও সামা শরীফ-এর মাহফিলের প্রচলন করবে। কারণ যেখানে সুন্নত আসবে সেখানে আর হারাম গান-বাজনা থাকতে পারবে না।
বলা বাহুল্য; পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ শোনা, লেখা, পাঠ করা, শোনার আয়োজন করা, উৎসাহ দিয়ে লিখানো সবই খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে একটি আলাদা মিম্বর শরীফ বানিয়ে দিয়েছিলেন যেখানে বসে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ক্বাছীদা শরীফ পরিবেশন করতেন এবং পাশের মিম্বর শরীফ উনার মধ্যে বসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম তিনি তা শুনতেন এবং কখনো আওড়াতেন।
আর সেই ধারাবাহিকতায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, হযরত আউলিয়াযে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম এবং মুজাদ্দিদগণ উনারা সেই সুন্নত মুবারক উনার হুবহু অনুসরণে ক্বাছীদা বা সামা শরীফ শোনার আয়োজন করতেন। যা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত এবং খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত।
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন খলীফায়ে ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যেদিন পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন, সেদিন গায়েবী থেকে দুটি কবিতা শরীফ শ্রুত হয়। কিন্তু কবিতা শরীফ আবৃত্তিকারীকে দেখা যায়নি। কবিতা শরীফ দুটির মর্ম হচ্ছে এই,
“পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর কেউ ক্রন্দন করতে চাইলে সে ক্রন্দন করুক, বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি লোকেরা ধ্বংসের পানে উপনীত হয়েছে। দুনিয়া হতে কল্যাণ দূরে সরে গিয়েছে এবং ভালো লোকেরা দুনিয়ায় দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে কাছীর, আল-বিদায়া)
সুতরাং সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- হারাম গান-বাজনা থেকে বিরত থেকে খাছ সুন্নত পালনে ক্বাছীদা শরীফ, হামদ শরীফ, না’ত শরীফ শ্রবণের মাধ্যমে হাক্বীক্বী বান্দা ও উম্মত হওয়া।