নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরের তৈরি, মাটির তৈরি নন

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরের তৈরি’ হিসেবে অস্বীকার করা এবং তার বিপরীত উনাকে মাটির তৈরি বলা এবং নূর ও মাটি দ্বারা তৈরি বলা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ ও অসংখ্য হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার নামান্তর। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র নূরের তৈরি। সেজন্য বলা হয়, তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর। মাটির কোন অস্তিত্বই উনার মধ্যে নেই।

মহান আল্লাহ পাক “পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ” উনার ১৫ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

قد جاءكم من الله نور.

অর্থ: “নিশ্চয় তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ‘নূর’ এসেছেন।”

উল্লেখ্য, এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি “নূর” শব্দ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝিয়েছেন, যেহেতু তিনি আপাদমস্তক “নূর বা নূরের তৈরি।”

আর হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, উক্ত ‘নূর’ হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

যেমন ক্বাজিউল কুজাত হযরত ইমাম আবূ সউদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইমাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মশহূর তাফসীর “তাফসীরে আবী সউদ”-এর ৩য় জিলদ ১৮ পৃষ্ঠায় লিখেন-

(قد جاءكم من الله نور.) … الـمراد بالنور هو الرسول صلى الله عليه وسلم

অর্থ: বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘নূর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি।”

এছাড়া আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজেকে নূরের তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انت بابى انت وامى اخبرنى عن اول شىء خلق الله تعالى قبل الاشياء قال يا جابر رضى الله تعالى عنه ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نور نبيك.

অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক সবকিছুর পূর্বে আপনার নবী উনার নূর মুবারককে সৃষ্টি করেন।” মুসনাদে আব্দির রয্যাক, দালায়িলুন নুবুওওয়াত, মাদারিজুন নুবুওওয়াত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রথম সৃষ্টিই হচ্ছেন উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক। আর উক্ত নূর মুবারক থেকেই মাটিসহ সবকিছুর সৃষ্টি হয়। তাহলে উনাকে মাটির সৃষ্টি বলা কিভাবে শুদ্ধ হতে পারে?

কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বাশার, ইনসান বা মানুষ মাটির তৈরি বলতে একমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। আর অপর কাউকে নয়। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-

واذ قال ربك للملئكة انى خالق بشرا من طين

অর্থ: “যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করবো মাটি দ্বারা।” (সূরা ছোয়াদ: আয়াত শরীফ ৭১)

“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় জিঃ, ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(انى خالق بشرا من طين) يعنى ادم عليه السلام.

অর্থ: “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো বাশার মাটি থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”

মূলত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার যতো আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ‘মানুষকে’ মাটির তৈরি বলা হয়েছে সে সকল আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লিখিত ‘মানুষ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন “হযরত আদম আলাইহিস সালাম।” কারণ শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটি থেকে সৃষ্টি নন।

অতএব, প্রত্যেক মুসলমানকে এ আক্বীদাই রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ নূরের তৈরি, মাটির তৈরি নন। অথবা নূর ও মাটি মিশ্রিতও নন। উনাকে মাটির বা মাটি ও নূরের তৈরি বলা সুস্পষ্ট গুমরাহী ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

(বিঃ দ্রঃ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ পত্রিকা উনার ফতওয়া বিভাগ “৬০তম থেকে ৮২তম” সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে ২৪১টি পবিত্র কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনাদের দলীলসহ বিস্তারিত ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ৯৪তম ও ১৬২তম সংখ্যার সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ দেখুন।)