আল্লাহ পাক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে ঈদ পালন করা ফরজ।

মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। এই নিয়ামত মুবারক এর জন্য অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করা তথা ফালইয়াফরাহু করা অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ তথা সর্বশ্রেষ্ট খুশি মুবারক প্রকাশ করা উম্মতের জন্য ফরজ।  আর সেই খুশি মুবারক প্রকাশ করাই হচ্ছে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আর এই নিয়ামতের স্মরন বা ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার কথা মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ উনার মধ্যে একাধিকবার বলেছেন। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَتَ اللَّهِ كُفْرًا وَأَحَلُّوا قَوْمَهُمْ دَارَ الْبَوَارِ

অর্থ:  তুমি কি তাদের কে দেখনি, যারা আল্লাহর নেয়ামতকে কুফরে পরিণত করেছে এবং স্ব-জাতিকে সম্মুখীন করেছে ধ্বংসের আলয়ে। (পবিত্র সূরা ইব্রাহিম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
আয়াতে “যারা” বলতে মক্কার কুরাইশ কাফেরদেরকে বুঝানো হয়েছে আর نعمةالله দ্বারা হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে (বুখারী – কিতাবুল মাগাযী: হাদীস ৩৯৭৭) এই তাফসীর করেন স্বয়ং হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি। তাহলে আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত বলতে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়।

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে একাধিক স্থানে এই নিয়ামত সম্পর্কে বলেন,

وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহর আযাব অতি কঠিন। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১১)

وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنزَلَ عَلَيْكُم

অর্থ: আল্লাহ পাক উনার সে নিয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে (পবিত্র সূরা বাকারা: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩১)

وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ
অর্থ: তোমরা আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতের কথা স্মরন করো ( পবিত্র আল ইমরান শরীফ:  পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُم بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

অর্থ: তোমরা আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং ঐ অঙ্গীকারকেও যা তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছেন, যখন তোমরা বলেছিলেঃ আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। ( পবিত্র সূরা নহল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮)

وَآتَاكُم مِّن كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ ۚ وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ إِنَّ الْإِنسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ

অর্থ: যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ। ( পবিত্র সূরা ইব্রাহিম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)

তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ালো হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আর আল্লাহ পাক বারবার বলেছেন, সে নিয়ামত তথা হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক করতে, এবং এ নিয়ামত এতবড় নিয়ামত যে, যা আলোচনা ছানা সিফত করে শেষ করা যাবে না।

মহান আল্লাহ পাক এই নিয়ামত (হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করার বিষয়ে ইরশাদ মুবারক করেন,

يَا اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مّن رَّبّكُمْ وَشِفَاءٌ لّمَا فِي الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَرَحْـمَةٌ لّلْمُؤْمِنِيْنَ ◌ قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهه فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ
অর্থ : “হে মানবজাতি! অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্যে তাশরীফ মুবারক এনেছেন মহান নছীহত মুবারক দানকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ শিফা মুবারক দানকারী, কুল-কায়িনাতের মহান হিদায়েত মুবারক দানকারী ও খাছভাবে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহান রহমত মুবারক দানকারী (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ফদ্বল বা অনুগ্রহ মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক(হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার জন্য তারা যেনো সম্মানিত ঈদ উদযাপন তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করে। এই খুশি মুবারক প্রকাশ বা ঈদ করাটা সেসব কিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া-আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (পবিত্র সূরা ইঊনুস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

সুতরাং প্রমাণিত হল আল্লাহ পাক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হলেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং এই নিয়ামত মুবারক তথা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খুশি তথা ঈদ পালন করতে হবে যা মহান আল্লাহ পাক উনার ই আদেশ মুবারক।